রাখি বন্ধন নিয়ে কিছু কথা | রাখি বন্ধন উৎসবের ইতিহাস

WhatsApp Channel Follow Now
Telegram Group Follow Now

রাখি বন্ধন নিয়ে কিছু কথা : ভাই ও বোনের স্নেহের বন্ধনে বাঁধা পড়ার উৎসবের নামই হল রাখি উৎসব। আপনি কি জানেন রাখি বন্ধন কেন পালন করা হয় এবং রাখি বন্ধন উৎসব প্রথম কবে পালিত হয়? আর কেই বা রাখি বন্ধন উৎসব কে প্রচলন করেন

এই পোস্টে রাখি বন্ধন উৎসবের সমস্ত পৌরাণিক কাহিনী ও ইতিহাস আপনাদের সামনে তুলে ধরবো। যদি পোস্ট টি আপনাদের ভালো লাগে তাহলে পরে শেয়ার করতে ভুলবেন না।

রাখি বন্ধন নিয়ে কিছু কথা | history about raksha bandhan

রাখি বন্ধন নিয়ে কিছু কথা

ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যায়, কলকাতার রাস্তায় রাস্তায় ৩০শে আশ্বিন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নেতৃত্বে রাখি বন্ধন উৎসব পালিত হয়।

এই রাখি বন্ধন উৎসব প্রতি বছর শ্রাবন মাসের পূর্ণিমার দিন পালন করা হয়। বোনেরা তাদের ভাইদের হাতের কব্জিতে সুন্দর সুন্দর পবিত্র সূতো বেঁধে দেন যা ‘নিরাপত্তা ও রক্ষার বন্ধন’ প্রতীক হিসেবে ব্যবহার করা হয়। তাঁরা তাদের ভাইদের মঙ্গল কামনা করে এবং ভাইয়েরা বোনদের রক্ষা করা প্রতিশ্রুতি প্রদান করে। মনে করা হয়, এই বিশেষ দিনে পরিবেশে “যম” বা দুষ্টু ও অশুভ তত্ত্ব বেশি থাকে, এতে ভাইয়ের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা থাকে, কিন্তু রাখি বন্ধনের ফলে তা দূর হয়ে যায়।

রাখী পূর্ণিমাকে ঘিরে রয়েছে নানান পৌরাণিক কাহিনি। রামায়ণ অনুযায়ী, ভগবান রাম সমস্ত বানর সেনাদের ফুল দিয়ে রাখি বেঁধে ছিলেন। এছাড়া, লক্ষ্মী বালিকে ভাই হিসেবে মেনে রাখি পরিয়েছিলেন যাতে সে উপহার স্বরূপ বিষ্ণুকে স্বর্গে তার কাছে ফিরে যেতে বলে।

শোনাযায় কোন এক যুদ্ধে কৃষ্ণের কব্জীতে আঘাত লেগে রক্তপাত শুরু হলে দ্রৌপদী নিজের শাড়ির আঁচল ছিড়ে ক্ষতস্থান বেঁধে দেন। এই ঘটনায় কৃষ্ণ অভিভূত হন।

দ্রৌপদীকে বোন বলে ঘোষণা দেন এবং এর প্রতিদান দেবেন বলে প্রতিশ্রুতি বদ্ধ হন। ঘটনাচক্রে আমরা দেখতে পাই, পাশাখেলায় কৌরবরা যখন দ্রৌপদীর বস্ত্রহরণে রত তখন কৃষ্ণ দ্রৌপদীর সম্ভ্রম রক্ষা করেছিলেন।

একই সাথে বলিরাজা এবং লক্ষ্মীর রাখীবন্ধনের গল্পও যেমন প্রচলিত তেমনি গনেশের মেয়ে সন্তোষী মাতার দুই ভাই শুভ এবং লাভের হাতে রাখী পরানোর গল্পও শোনা যায়।

রাখি বন্ধন উৎসবের ইতিহাস

রাখীবন্ধনের দিন গণেশের বোন গণেশের হাতে একটি রাখি বেঁধে দেন। এতে গণেশের দুই ছেলে শুভ ও লাভের হিংসে হয়। তাদের কোনও বোন ছিল না। তারা বাবার কাছে একটা বোনের বায়না ধরে। গণেশ তখন তাঁর দুই ছেলের সন্তোষ বিধানের জন্য দিব্য আগুন থেকে একটি কন্যার জন্ম দেন। এই দেবী হলেন গণেশের মেয়ে সন্তোষী মা। সন্তোষী মা শুভ ও লাভের হাতে রাখি বেঁধে দেন।

অন্য একটি কাহিনি রয়েছে, দৈত্যরাজা বলি ছিলেন বিষ্ণুর ভক্ত। বিষ্ণু বৈকুণ্ঠ ছেড়ে বালির রাজ্য রক্ষা করতে চলে এসেছিলেন। বিষ্ণুর স্ত্রী লক্ষ্মী স্বামীকে ফিরে পাওয়ার জন্য এক সাধারণ মেয়ের ছদ্মবেশে বলিরাজের কাছে আসেন। লক্ষ্মী বলিকে বলেন, তাঁর স্বামী নিরুদ্দেশ। যতদিন না স্বামী ফিরে আসেন, ততদিন যেন বলি তাঁকে আশ্রয় দেন। বলিরাজা ছদ্মবেশী লক্ষ্মীকে আশ্রয় দিতে রাজি হন। শ্রাবণ পূর্ণিমা উৎসবে লক্ষ্মী বলিরাজার হাতে একটি রাখী বেঁধে দেন।

বলিরাজা এর কারণ জিজ্ঞাসা করলে লক্ষ্মী আত্মপরিচয় দিয়ে সব কথা খুলে বলেন। এতে বলিরাজা মুগ্ধ হয়ে বিষ্ণুকে বৈকুণ্ঠে ফিরে যেতে অনুরোধ করেন। বলিরাজা বিষ্ণু ও লক্ষ্মীর জন্য সর্বস্ব ত্যাগ করেন। সেই থেকে শ্রাবণ পূর্ণিমা তিথিটি বোনেরা রাখীবন্ধন হিসেবে পালন করে।

এতো গেলো পৌরাণিক আখ্যান। আর ঐতিহাসিক আখ্যানে রাখী নিয়েও অনেক ঘটনা রয়েছে। একটি কিংবদন্তী অনুযায়ী, আলেকজান্ডার ভারত আক্রমণ করলে আলেকজান্ডারের স্ত্রী রোজানা রাজা পুরুকে একটি পবিত্র সুতো পাঠিয়ে তাঁকে অনুরোধ করেন আলেকজান্ডারের ক্ষতি না করার জন্য। এবং পুরু সেই রাখীকে শ্রদ্ধা করে যুদ্ধক্ষেত্রে আলেকজান্ডারেকে আঘাত করেননি।

একই রকম আর একটি ঘটনার কথা জানা যায় রানি কর্ণবতী ও সম্রাট হুমায়ুন কে নিয়ে। বাহাদূর শা চিতোর আক্রমণ করলে চিতোরের রানি কর্ণবতী হুমায়ুনকে রাখী পাঠিয়ে সাহায্য প্রার্থনা করেছিলেন। তবে এই রাখী পাঠানোর কথা সমকালীন ঐতিহাসিকেরা সন্দেহ প্রকাশ করলেও মধ্য-সপ্তদশ শতকের রাজস্থানী লোকগাথায় এর উল্লেখ পাওয়া যায়।

তবে পৌরাণিক এবং ঐতিহাসিক রাখীপূর্ণিমাকে এক অন্য মাত্রা দেন বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। ১৯০৫ সাল বাংলাকে ভাগ করবার ষড়যন্ত্র চলছে। আর তখন বাংলা ভাগ প্রতিরোধ করবার জন্য রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রাখী বন্ধন উৎসব কে এক অন্য আঙ্গিকে উপস্থাপন করলেন। কলকাতা, ঢাকা, সিলেট সহ বিভিন্ন স্থানের হাজার হাজার হিন্দু ও মুসলিম ভাই-বোন বঙ্গভঙ্গের বিরুদ্ধে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষার উদ্দেশ্যে একতার প্রতিক হিসাবে সেদিন রাখী উৎসবে সামিল হয়েছিলেন।

এই রাখী উৎসব কে স্মরণীয় করে রাখতে কবিগুরু লিখেছিলেন-

“বাংলার মাটি, বাংলার জল, বাংলার বায়ু, বাংলার ফল–পুণ্য হউক, পুণ্য হউক, পুণ্য হউক হে ভগবান ॥

বাংলার ঘর, বাংলার হাট, বাংলার বন, বাংলার মাঠ–পূর্ণ হউক, পূর্ণ হউক, পূর্ণ হউক হে ভগবান ॥

বাঙালির পণ, বাঙালির আশা, বাঙালির কাজ, বাঙালির ভাষা–সত্য হউক, সত্য হউক, সত্য হউক হে ভগবান ॥

বাঙালির প্রাণ, বাঙালির মন, বাঙালির ঘরে যত ভাই বোন–এক হউক, এক হউক, এক হউক হে ভগবান ॥”

রাখি বন্ধন কেন পালন করা হয়

প্রতি বছর শ্রাবণ মাসের পূর্ণিমা তিথিতে পালিত হয় রাখি বন্ধন উৎসব। এই দিনে বোনেরা তাদের ভাইয়ের কব্জিতে রাখি বাঁধেন। তাদের মিষ্টি খাওয়ান। অন্যদিকে, ভাইরা তাদের বোনদের রক্ষা করবে বলে প্রতিশ্রুতি দেয়। এই উৎসবকে ভাই-বোনের অটুট ভালোবাসা ও উৎসর্গের প্রতীক হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

পৌরাণিক বিশ্বাস অনুসারে, ১০০ টি অপরাধ করার পর যখন শ্রী কৃষ্ণ শিশুপালকে হত্যা করার জন্য যুদ্ধ করছিলেন, তখন শ্রী কৃষ্ণের তর্জনী কেটে রক্তপাত শুরু হয়েছিল। তারপর দ্রৌপদী তার শাড়ির আঁচলের একটা টুকরো ছিঁড়ে শ্রীকৃষ্ণের হাতে বেঁধে দেন। তখন শ্রীকৃষ্ণ দ্রৌপদীকে রক্ষা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। এর পরে, শ্রীকৃষ্ণ দ্রৌপদীর ভরা সভায় বস্ত্র অপসারণের সময় তাঁর দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুসারে রাজা ধৃতরাষ্ট্রের দরবারে দ্রৌপদীর সম্মান রক্ষা করেছিলেন। তখন থেকেই এই উৎসব পালিত হয়ে আসছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ভগবত পুরাণ এবং বিষ্ণু পুরাণের ভিত্তিতে, এটি বিশ্বাস করা হয় যে ভগবান বিষ্ণু যখন রাজা বলিকে পরাজিত করে তিনটি জগতের অধিকার নিয়েছিলেন, তখন বলি আশীর্বাদ স্বরূপ ভগবান বিষ্ণুকে তাঁর প্রাসাদে থাকার জন্য অনুরোধ করেছিলেন। ভগবান বিষ্ণু এই অনুরোধে রাজি হলেন। এর ফলে ভগবান নিজের বরেই আটকে গেলেন। এমতাবস্থায় মা লক্ষ্মী নারদ মুনির পরামর্শ নিলেন। এরপর মা লক্ষ্মী রক্ষা সুতো বেঁধে বলীকে ভাই বানিয়ে দেন। এতে বলি লক্ষ্মীরকে কাঙ্খিত উপহার চাইতে বলেন। মা লক্ষ্মী রাজা বলিকে রাখি বেঁধে ভগবান বিষ্ণুকে বৈকুণ্ঠে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার উপহার চেয়েছিলেন।

রাখি বন্ধন উৎসব প্রথম কবে পালিত হয়

১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গের বিরোধিতা করতে রাখিকে গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করেছিলেন রবীন্দ্রনাথ। এই বছরের ২০ জুলাই ব্রিটিশ সরকার বঙ্গভঙ্গের কথা ঘোষণা করে। জানানো হয়, এই আইন কার্যকরীর হবে ১৯০৫-এরই ১৬ অক্টোবর, বাংলায় ৩০ আশ্বিন। সেই সময়ে ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে বঙ্গভঙ্গের বিরোধিতায় মানুষ সামিল হয়।

ঠিক হয়, ওই দিন বাংলার মানুষ পরস্পরের হাতে বেঁধে দেবেন হলুদ সূতো বাঁধবেন। এই দিনকে মিলন দিবস হিসেবে পালন করা হয়। কবিগুরু এই দিনটিকে রাখি বন্ধন উৎসব পালন করার ডাক দেন। বাংলায় হিন্দু ও মুসলিমদের মধ্যে সম্প্রীতি ও সৌভ্রাতৃত্বকে ফুটিয়ে তুলতেই এই উদ্যোগ নেন রবীন্দ্রনাথ।

রাখি বন্ধন উৎসব রচনা

সাংস্কৃতিক উৎসবের ধর্মীয় রঙ হয় কিন্তু কোন কোন সময়ে তা ধর্মীয় রঙ ছাড়িয়ে রাজনৈতিক রুপও ধারন করে। তেমনি একটি উদাহরন হল রাখীবন্ধন উৎসব, যা সমগ্র উপমহাদেশে এখনো প্রাসঙ্গিক।

রাখিবন্ধনকে ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ বিরোধী আন্দোলনের অন্যতম প্রধান হাতিয়ার হিসেবে ব্যাবহার করা হয়। বস্তত এই ব্যাবহারের উদ্দেশ্য ছিল কলকাতার উচু শ্রেনীর হিন্দু জমিদারদের স্বার্থ রক্ষা।

বঙ্গভঙ্গ বিরোধী আন্দোলনে রাখি বন্ধন কর্মসূচি ১৭ সেপ্টেম্বর কোলকাতার সাবিত্রী লাইব্রেরী স্বধর্ম সমিতির বিশেষ অধিবেশনে রবীন্দ্রনাথ সভাপতির ভাষণে প্রস্তাব রাখেন –১৯০৫ সালের ১৬ অক্টোবর তারিখ থেকে ব্রিটিশ সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী ওই আইন কার্যকর হলে সেদিন কোন বাড়িতে রান্নাবান্না হবে না। বাঙালি জনসাধারণ অরন্ধন পালন করে উপোষ থাকবে। বাঙালির ঐক্য বজায় রাখার জন্য দেশজুড়ে হবে রাখিবন্ধন উৎসব। দিনটিকে মিলন দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হয়। রাজনীতিকরা ওই তারিখে রাজধানী কলকাতায় হরতাল আহ্বান করে।

রাখিবন্ধন উপলক্ষ্যে রবীন্দ্রনাথ রাখি-সঙ্গীত

‘বাংলার মাটি, বাংলার জল, বাংলার বায়ূ, বাংলার ফল—পূণ্য হউক, পূণ্য হউক’ রচনা করেন।

৭ আগস্ট বাগবাজারে রায় পশুপতিনাথ বসুর সুরম্য প্রাসাদপ্রাঙ্গণে বিজয়া সম্মিলনী অনুষ্ঠানে রবীন্দ্রনাথ আমন্ত্রিত হন। বিজয়া সম্মিলনী মূলত হিন্দুদের অনুষ্ঠান। রবীন্দ্রনাথ লক্ষ করেছেন বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনের সব প্রতীকই হিন্দুদের প্রতীক থেকে গ্রহণ করা হচ্ছে। এসব প্রতীকের সাম্প্রদায়িক চরিত্র আছে।

বঙ্গদেশ কেবল হিন্দুদের নয়—হিন্দু-মুসলমান-বৌদ্ধ-খ্রীস্টান—সকল মানুষেরই দেশ। এতকাল সকল মানুষ এক সঙ্গেই আছে। বঙ্গদেশটি ভাঙলে হিন্দু-মুসলমান-বৌদ্ধ-খ্রীস্টান—সকল মানুষের বঙ্গদেশই ভাঙবে। কেবল হিন্দুর বঙ্গদেশ ভাঙবে না। বঙ্গভঙ্গ রদ করতে হলে সকল মানুষের অংশগ্রহণ চাই। এমন আন্দোলন চাই যেখানে সকল শ্রেণী-পেশার মানুষই অন্তর থেকে অংশ নিতে পারে।

রাখি বন্ধন উৎসব কে প্রচলন করেন

শ্রাবণ মাসের পূর্ণিমায় ভাইয়ের হাতে বোনেরা রাখি বেঁধে দেন। মূলত ভাইয়ের মঙ্গল কামনায় এই রীতি চলে আসছে। অবাঙালিদের কাছে রাখি বন্ধন রক্ষা বন্ধন নামেও পরিচিত। কিন্তু বাঙালিদের কাছে রাখি কেবলই ভাই বোনের মধ্যে আবদ্ধ নয়। এছাড়া ধর্মীয় ও সামাজিক গণ্ডি পেরিয়ে রাখিকে রাজনৈতিক ক্ষেত্রেও জায়গা দিয়েছে বাঙালিই। আর বাঙালির এই রাখি বন্ধনের প্রসঙ্গে উঠে আসবেই রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নাম।

উনিশ শতকের প্রথমার্ধে ভারতবর্ষে জাতীয়তাবাদী আন্দোলন চরম পর্যায়ে পৌঁছালে ব্রিটিশ সরকার সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাকে দুটি প্রদেশে বিভক্ত করবে। ব্রিটিশ সরকারের এই বিরূপ সিদ্ধান্তে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গ প্রতিরোধ করার জন্য রাখিবন্ধন উৎসবের ডাক দেন। তিনি কলকাতা, ঢাকা ও সিলেট থেকে হাজার হাজার হিন্দু ও মুসলিম ভাইবোনকে আহ্বান করেছিলেন একতার প্রতীক হিসেবে রাখিবন্ধন উৎসব পালন করার জন্য। সেই থেকে বাংলায় প্রবেশ করে রাখিবন্ধন উৎসব।

রাখি বন্ধন নিয়ে কিছু কথা ও রাখি পূর্ণিমার ইতিহাস ও পৌরাণিক কাহিনী : সম্পর্কে জানতে পেরে আপনাদের কেমন লাগলো মন্তব্য করে জানাবেন যদি পোষ্টটি আপনাদের ভালো লাগে তাহলে বন্ধুদের সঙ্গে শেয়ার করতে ভুলবেন না।

FAQs About Raksha Bandhan History

রাখি বন্ধন উৎসব এর নেতৃত্ব দেন কে?

১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গের বিরোধিতা করতে রাখিকে গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করেছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। এই বছরের ২০ জুলাই ব্রিটিশ সরকার বঙ্গভঙ্গের কথা ঘোষণা করে। জানানো হয়, এই আইন কার্যকরীর হবে ১৯০৫-এরই ১৬ অক্টোবর, বাংলায় ৩০ আশ্বিন। সেই সময়ে ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে বঙ্গভঙ্গের বিরোধিতায় মানুষ সামিল হয়।

রাখি বন্ধন উৎসব কী?

শ্রাবণ মাসের পূর্ণিমায় ভাইয়ের হাতে বোনেরা রাখি বেঁধে দেন। মূলত ভাইয়ের মঙ্গল কামনায় এই রীতি চলে আসছে। অবাঙালিদের কাছে রাখি বন্ধন উৎসব রক্ষা বন্ধন নামেও পরিচিত। কিন্তু বাঙালিদের কাছে রাখি কেবলই ভাই বোনের মধ্যে আবদ্ধ নয়। এছাড়া ধর্মীয় ও সামাজিক গণ্ডি পেরিয়ে রাখিকে রাজনৈতিক ক্ষেত্রেও জায়গা দিয়েছে বাঙালিই। আর বাঙালির এই রাখি বন্ধনের প্রসঙ্গে উঠে আসবেই রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নাম।

রাখি কোন হাতে বাঁধা হয়?

প্রতি বছর শ্রাবণ মাসের পূর্ণিমা তিথিতে পালিত হয় রাখি বন্ধন উৎসব। এই দিনে বোনেরা তাদের ভাইয়ের ডান হাতের কব্জিতে রাখি বাঁধেন। তাদের মিষ্টি খাওয়ান। অন্যদিকে, ভাইরা তাদের বোনদের রক্ষা করবে বলে প্রতিশ্রুতি দেয়। এই উৎসবকে ভাই-বোনের অটুট ভালোবাসা ও উৎসর্গের প্রতীক হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

WhatsApp Group Join Now
Telegram Group Join Now

Leave a Comment