বিশ্বকর্মা প্রনাম মন্ত্র, পূজা মন্ত্র ও পুষ্পাঞ্জলী মন্ত্র ২০২৩

WhatsApp Channel Follow Now
Telegram Group Follow Now

Last updated on September 15th, 2023 at 10:51 pm

বিশ্বকর্মা প্রনাম মন্ত্র, পূজা মন্ত্র ও পুষ্পাঞ্জলী মন্ত্র ২০২৩ : এই বছর বিশ্বকর্মা পূজা ভাদ্র মাসের শুক্লপক্ষের তৃতীয়া তিথিতে অর্থাৎ ১৮ সেপ্টেম্বর সোমবার পালিত হবে। এ সময় পূজার শুভ সময় সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলবে।

কারিগরী শিল্প যে, দেবতার আরাধনা ছাড়া অসম্পূর্ণ থেকে যায়, তিনি হলেন বিশ্বকর্মা। হিন্দুদের কাছে বিশ্বকর্মার আরাধনা একটি বড় ধর্মীয় উৎসব। ভাদ্রমাসের সংক্রান্তিতে দেবতাদের শিল্পের কারিগর বিশ্বকর্মার পুজো করা হয়। পুরাণে বর্ণিত আছে এই দেবতার শিল্প কার্যের কাহিনী।

পুরাণ মতে তিনি হলেন কারিগরি দেবতা। অষ্টম বসু প্রভাস হলেন তাঁর পিতা এবং মাতা হলেন বৃহস্পতির ভগিনী, বরবর্ণিনী। আবার ব্রহ্মবৈবর্ত্ত পুরাণে বর্ণিত তাঁর জন্ম ব্রহ্মার নাভি থেকে। পুরাণের কাহিনীতে উল্লেখ করা আছে তাঁর সৃষ্টি কার্যের কথা। ভগবত পুরাণের কাহিনীতে লেখা আছে শ্রীকৃষ্ণের দ্বারকা পুরীর নির্মাতা হলেন বিশ্বকর্মা।

পুরাণ ও হিন্দুশাস্ত্র মতে বিশ্বকর্মা দেবের পুজো করলে শিল্পবিদ্যায় পারদর্শী হয় ভক্তেরা। তিনি হলেন চতুর্ভুজ ও গজারূঢ়। তাঁর বাহন হল হস্তী।

বিশ্বকর্মা প্রনাম মন্ত্র

বিশ্বকর্মা পূজা মন্ত্র

বিশ্বকর্মা পূজার উপকরণ – সিন্দুর, পুরোহিত বরণ ১, তিল, হরিতকী, পঞ্চগুঁড়ি, পঞ্চগব্য, পঞ্চশস্য, পঞ্চরত্ন, পঞ্চপল্লব, ঘট ১, কুন্ডহাঁড়ি ১,তেকাঠা ১, দর্পণ ১, তীর ৪, ঘটচ্ছাদন গামছা ১, বরণডালা, সশীষ ডাব ১, একসরা আতপ তণ্ডুল, পুষ্প, দূর্ব্বা, তুলসী, বিল্ল্বপত্র, ধূপ, দীপ, ধুনা, বিশ্বকর্মার ধুতি ১, আসনাঙ্গুরীয়ক ১, মধুপর্কের বাটী, ঘৃত, দধি, মধু, নৈবেদ্য ১, কুচা নৈবেদ্য ১, চন্দ্রমালা ১, পুষ্পমালা ১, থালা ১, ঘটি ১, পান, পানের মশলা, বালি, কাষ্ঠ, খোড়কে, গব্যঘৃত ১ পোয়া, পূর্ণপাত্র ১, আরতি ও দক্ষিণা।

বিশ্বকর্মা পূজা পুষ্পাঞ্জলী মন্ত্র

দেবশিল্পী মহাভাগ দেবণাং বিধিবৎ কল্যাণং কুরু যে সদা আয়ুৰ্যশঃ বলং দেহি শিল্পে দেহি শুভাং মতি ধনং দেহি,যশো দেহি

বিশ্বকৰ্মণ প্রসীদ মে শিল্পচার্য্যং নমস্তুভ্যং নানালঙ্কার ভূষিতম্ মম বিঘ্নবিনাশায় কল্যাণং কুরু যে সদা

এষ সচন্দন পুষ্প বিল্বপত্রাঞ্জলি ওম বিশ্বকর্ণে নমঃ (তিনবার বলবেন)

বিশ্বকর্মার ধ্যান মন্ত্র

ওঁ বিশ্বকর্মন্ মহাভাগ সুচিত্রকর্মকারক্ ।
বিশ্বকৃৎ বিশ্বধৃক্ ত্বঞ্চ রসনামানদণ্ডধৃক্ ।।

এর অর্থ হল, হে দংশপাল ( বর্মের দ্বারা পালনকারী ) , হে মহাবীর , হে বিশ্বের সৃষ্টিকর্তা ও বিশ্ব বিধাতা, হে সুন্দর চিত্র রূপ কর্মকারক , আপনি মাল্য চন্দন ধারন করে থাকেন ।

বিশ্বকর্মা প্রনাম মন্ত্র

দেবশিল্পি মহাভাগ দেবানাং কার্য্যসাধক । বিশ্বকর্মন্নমস্তুভ্যং সর্বাভীষ্টপ্রদয়ক ।।

অর্থ- দেবশিল্পী , মহাভাগ ( দয়াদি অষ্ট গুন যুক্ত ) দেবতা দের কারু কার্য্যসাধক সর্বাভীষ্ট প্রদানকারী হে বিশ্বকর্মা আপনাকে নমস্কার।

বিশ্বকর্মা পূজা সংকল্প মন্ত্র

ওঁ বিষ্ণুরোম্ তৎসদদ্য ভদ্রেমাসি কৃষ্ণে পক্ষে অমাবস্যায়াং তিথেী অমুক গোত্রঃ (নিজের গোত্র )

বিশ্বকর্মা পূজা শান্তি মন্ত্র

ওঁম স্বতি নন্দ্রো বৃদ্ধশ্রবাঃ স্বতি নঃ পূষা বিশ্বেদাঃ স্বস্তিনতাক্ষো অরিষ্টনেমিঃ স্বতি ন বৃহস্পতির্ধাতু

ওম স্বস্তি, ওম স্বস্তি, ওম স্বস্তি ওঁম দৌঁ শান্তিঃ, শান্তিঃ অন্তরীক্ষ শান্তিঃ, বনস্পতয়ঃ শান্তিঃ ওষধয়ঃ শান্তিঃ, সর্বাপচ্ছন্তিঃ

রোগাদি শান্তি, গ্রহপীড়াদিঃ শান্তিঃ শান্তিরেব শান্তিঃ ওঁ ম শান্তিঃ, ওঁ শান্তিঃ, ওঁ শান্তিঃ

বিশ্বকর্মা পূজার পাঁচালী

রাবনের রাজাপ্রসাদের সাথে সুন্দর উদ্যান, গোষ্ঠ, মন্ত্রণা গৃহ, মনোরম ক্রীড়া স্থান, রাজাপ্রাসাদের কারুকার্য ইত্যাদি দেবশিল্পীর নিখুত শিল্প কলার পরিচয় দেয় । এছাড়া ভাগবত পুরান অনুসারে দ্বারকা নগরীর যে সুরক্ষিত, ভাস্কর্য , কলা কৌশলের একটি ধারনা পাওয়া যায়- তাতে শিল্পী বিশ্বকর্মার শিল্প কে দেখে আশ্চর্য হতে হয় ।

বিশ্বকর্মার অপর নির্মাণ হল দেবপুরী । তিনি সমস্ত সৌন্দর্য কে মিলিয়ে এই পুরী নির্মাণ করেছিলেন । এই পুরীকে পাওয়ার জন্য বারংবার অসুর গণ সুর লোকে হানা দিয়েছিলেন। তাই বিশ্বকর্মার সৃষ্টিকে প্রনাম না করে থাকা যায় না ।

মৎস্য পুরান বলে- কি কূপ, কি প্রতিমা, কি গৃহ, কি উদ্যান সকল কিছুর উদ্ভাবক হলেন বিশ্বকর্মা। শুধু এখানেই বিশ্বকর্মার সৃষ্টি শেষ নয়, যে বিমানে চড়ে দেবতারা গমন করেন- তাও বিশ্বকর্মার তৈরী। এবং বিভিন্ন দিব্য বান- যা কেবল দেবতাদের অস্ত্রাগারে থাকে – তাও বিশ্বকর্মার তৈরী।

যে ধনুক দিয়ে ভগবান শিব ত্রিপুরাসুরকে বধ করেছিলেন, যে ধনুক পরশুরামের কাঁধে শোভা পেতো- সেই ধনুক বিশ্বকর্মার সৃষ্টি। বৃত্রাসুর বধের জন্য বিশ্বকর্মা দধীচি মুনির অস্থি থেকে বজ্র নির্মাণ করে দেবেন্দ্র কে দিয়েছিলেন ।

কিছু পুরান বলে ভগবান বিষ্ণুর চক্র, ভগবান শিবের ত্রিশূল বিশ্বকর্মার সৃষ্টি । শ্রী শ্রী চন্ডীতে দেখি মহিষাসুর বধের জন্য দেবী মহামায়া প্রকট হলে দেবীকে তীক্ষ্ণ বর্শা, অভেদ্য কবচ এবং বহু মারনাস্ত্র বিশ্বকর্মা দেবীকে প্রদান করেন । রামচন্দ্রের সেতু বন্ধনের অন্যতম কারিগর নল এই বিশ্বকর্মার পুত্র ।

বিষ্ণু পুরান বলে ত্বষ্টা নামক এক শিল্পী ছিল- যিনি বিশ্বকর্মার পুত্র । দেবতাদের শিল্পী যেমন বিশ্বকর্মা , তেমনি অসুর দের শিল্পী হলেন ময় দানব । বায়ু পুরান ও পদ্ম পুরান মতে ভক্ত প্রহ্লাদের কন্যা বিরোচনার সাথে বিশ্বকর্মার বিবাহ হয় । বিশ্বকর্মার ঔরসে বিরোচোনার গর্ভে অসুর শিল্পী ময় দানবের জন্ম হয় ।

ব্রহ্মবৈবর্ত্ত পুরান মতে বিশ্বকর্মা ও তাঁর স্ত্রী ঘৃতাচী দুজনেই শাপ পেয়ে ধরাধামে জন্ম নেন । ঘৃতাচী ছিলেন স্বর্গের এক নর্তকী । তাঁদের নয়টি সন্তান হয় – যথা মালাকার , কর্মকার , কাংস্যকার, শঙ্খকার , সূত্রধর, কুবিন্দক, কুম্ভকার, স্বর্ণকার, চিত্রকর ।

বিশ্বকর্মা প্রত্যেক কেই নানান শিল্প শেখান । তিনি মালাকারকে পুস্প শিল্প, কর্মকারকে লৌহ শিল্প, কাংস্যকারকে কাংস শিল্প, শঙ্খ কারকে শঙ্খ শিল্প, সূত্রধরকে কাষ্ঠ শিল্প, কুবিন্দক কে বয়ন শিল্প, কুম্ভকারকে মৃৎ শিল্প, স্বর্ণকারকে অলঙ্কার শিল্প, চিত্রকরকে অঙ্কন শিল্প শেখান। স্কন্ধ পুরান বলে বৃত্রাসুর হলেন বিশ্বকর্মার পুত্র। যাকে ইন্দ্র দেবতা বধ করেন । তবে স্কন্ধ পুরানের এই মত অপর কোন পুরানে পাওয়া যায় নি ।

এত সর্তেও বলা যায় বিশ্বকর্মার এক মেয়ে পিতার অমতে বিয়ে করেছিল। এই কারনে বিশ্বকর্মা বানর হয়ে পৃথিবীতে জন্মান । ঘটনা টি এই- বিশ্বকর্মা ও ঘৃতাচীর কন্যা চিত্রাঙ্গদা পৃথিবীর সূর্য বংশীয় রাজা সুরথ কে ভালোবাসতো। সুরথও চিত্রঙ্গদা কে ভালোবাসতো ।

কিন্তু দেবতা হয়ে ত মানুষের সাথে বিবাহ হয় না । বিশ্বকর্মা জানতে পেরে মেয়েকে যথেষ্ট শাসন করলেন । এই অবস্থায় পৃথিবীর মেয়েরা যা করে বিশ্বকর্মার কন্যা টিও তাই করলো । স্বর্গ থেকে পালালো । দুজনে বিবাহ করে নিলো। ক্রোধে অগ্নিশর্মা হয়ে বিশ্বকর্মা আসলেন ।

কন্যা ভাবলেন পিতা বুঝি আশীর্বাদ করতে এসেছেন । কিন্তু না। বিশ্বকর্মা অভিশাপ দিলেন । কন্যার বিবাহ বিচ্ছেদ হোক – এমন অভিশাপ দিলেন । কিন্তু সনাতন ধর্মে বিবাহকে খুব পবিত্র সম্পর্ক মানা হয়- যেখানে বিবাহ বিচ্ছদের স্থান নেই।

তাই মহর্ষি ঋতধ্বজ ভাবলেন দেবতা হয়ে বিশ্বকর্মার একি পশুর মতো বুদ্ধি? মুনি বিশ্বকর্মা কে বানর কূলে জন্মাবার শাপ দিলেন । বিশ্বকর্মা বানর হলেন । অবশেষে এক সময় কন্যার বিবাহ মেনে নিলে কন্যা ও বিশ্বকর্মা দুজনেরই শাপ দূর হয়।

বিশ্বকর্মা কী কী সৃষ্টি করেছিলেন?

রাবণের স্বর্ণ লঙ্কা থেকে কুবেরের অলকা পুরী ও দিব্য বিমান, অগস্ত্য মুনির ভবন তৈরি করেছেন তিনি। স্বর্গের দেবরাজ ইন্দ্রের ইন্দ্রপুরীর নির্মাতাও হলেন বিশ্বকর্মা। মৎস্য পুরাণ অনুসারে, জগতের সবকিছুর প্রতিষ্ঠাতা হলেন বিশ্বকর্মা।

দেবতাদের অস্ত্রাগারের সৃষ্টি কর্তা হলেন তিনি। সকল দেবতাদের দৈবরথ ও দৈববাণ তৈরি করেছেন তিনি। পরশুরামের ধনুক, ভগবান বিষ্ণুর চক্র ও শিবের ত্রিশূল হল বিশ্বকর্মার সৃষ্টি। শ্রীশ্রীচণ্ডী কথনে মহিষাসুর বধের সময় দেবী দুর্গাকে বর্শা ও কবচ দান করেছিলেন বিশ্বকর্মা।

রাবণের পুষ্পক রথ তৈরি করেছিলেন বিশ্বকর্মা-পুত্র নীলবীর। ব্রহ্মবৈবর্ত্ত পুরানে লেখা আছে বিশ্বকর্মা ও তাঁর স্ত্রী ঘৃতাচী ব্রহ্মার শাপে ধরাধামে জন্মান। নয়টি সন্তানের জন্ম দেয় ঘৃতাচী, তাদের প্রত্যেককেই নানান শিল্পে পারদর্শী করে তোলেন বিশ্বকর্মা।

বিশ্বকর্মা প্রনাম মন্ত্র, পূজা মন্ত্র ও পুষ্পাঞ্জলী মন্ত্র ২০২৩ : আশাকরি করি বিশ্বকর্মা পূজার সমস্ত মন্ত্র গুলি আপনার পূজার কাজে যথেষ্ট সহায়তা করবে। পোস্ট টি ভালো লেগে থাকলে শেয়ার করতে ভুলবেন না আরও নতুন নতুন পোস্ট পাওয়ার জন্যে আমাদের ওয়েবসাইট টি সাবস্ক্রাইব করতে পারেন নমস্কার।
WhatsApp Group Join Now
Telegram Group Join Now

Leave a Comment